ওজন বাড়ার ক্ষতিকর
দিক
ওজন বাড়ার
অর্থাৎ স্থূলতা বর্তমান সময়ের একটি অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা।স্থূলতা কে
সংজ্ঞায়িত করতে গেলে বলতে হবে একজন মানুষের স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে শতকরা বিশ ভাগ
বেশি ওজন।স্বাভাবিক ওজন পরিমাপ নির্ভর করে একজন মানুষের উচ্চতা,বয়স,লিঙ্গ এবং
আকৃতির উপর।স্থূলতা কে আরও যথার্থ ভাবে নির্ণয় করা যায় বিএমআই এর মাধমে মানে
দেহের ওজন সারণীর মাধমে।মানুষের দেহের ওজন কে তার
উচ্চতার বর্গ দারা ভাগ করলে বিএমআই হিসাব করা যায়।
উচ্চতার বর্গ (মিটার)
আমেরিকান ন্যাশনাল ইন্সিটিউট অফ হেল্থ
এর মতে, যদি মানুষের বিএমআই যদি ৩০ বা এর বেশি হয় তাহলে সে স্থূলতায়
আক্রান্ত।মানুষ স্থূলতায় আক্রান্ত হয় সাধারনত বেশি খাবার এবং দৈহিক কাজকর্ম কম
করার জন্য।যদি মানুষ অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহন করে বিশেষ করে চর্বি এবং চিনি জাতীয়
খাবার কিন্তু সেই ক্যালরি যদি না কমিয়ে ফেলা হয় দৈহিক কাজকর্ম এবং ব্যায়াম এর
মাধমে তাহলে সেই ক্যালরি শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হয় আর মানুষ স্থূলতার শিকার
হয়।স্থূলতার বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক আছে অর্থাৎ এর কারনে মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগের
মুখোমুখি হয়।নিম্নে এগুলোর উল্লেখ করা হলঃ
হৃদরোগঃ
স্থূলতার কারনে মাংশপেশীর
বাড়তি ওজন বহন করতে হয় দেহ কাঠামোকে যা রক্ত সংবহন তন্ত্র কে রক্ত পরিবহনে বাধা
দেয় এবং সেই সাথে হৃৎপিণ্ড কে অতিরিক্ত চাপ নিতে হয় দেহের আকার বেশি হওয়ার কারনে।
টাইপ ২ ডায়াবেটিসঃ
শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ যারা টাইপ
২ ডায়াবেটিস বহন করছে তারা স্থূলতায় আক্রান্ত।স্থূলতার কারনে দেহের ইনসুলিন
সঠিকভাবে রক্তের গ্লুকোজের (শর্করা) মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না যার কারনে ডায়াবেটিস এর উদ্ভব ঘটে।
স্ট্রোকঃ
স্থূলতা স্ট্রোক এর ঝুকি বাড়িয়ে দিতে পারে।অতিরিক্ত চর্বি এবং অতিরিক্ত কলেস্টেরল
স্ট্রোক এর অন্যতম কারন।
উচ্চ রক্তচাপঃ
উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে
মানুষের ধমনীতে রক্তের অতিরিক্ত চাপ।স্থূলতার কারনে চর্বিযুক্ত টিস্যু বৃদ্ধি পায়
যার ফলে হৃৎপিণ্ডকে রক্ত পরিবহন করার জন্য বাড়তি চাপ দিতে হয়।
ফ্যাটি লিভার
সমস্যাঃ
স্থূলতাও ফ্যাটি লিভার
সমস্যার কারন হতে পারে।যারা স্থূলকায় মানুষ তারা সাধারনত সব ধরনের খাবারই পছন্দ
করে ফলে তাদের খাবারে ফলশর্করা (ফ্রুক্টজ)এর উপস্থিতি থাকে।অতিরিক্ত ফ্রুক্টজ
লিভার এর সর্বনাশ ডেকে আনে।
কিডনী রোগঃ
আমেরিকার ন্যাশনাল
কিডনী ফাউন্ডেশন এর তথ্য মতে যারা স্থূলকায় তাদের কিডনী রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।স্থূলকায় লোক মাত্রই বিভিন্ন প্রোটিন যুক্ত খাবারের প্রতি
অতি মাত্রায় আগ্রহী বিশেষ করে লাল মাংস যা প্রোটিন অর্থাৎ অ্যামিনো এসিড কিডনীর নেফ্রন এর
কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়।
আরথাইটিসঃ
দেহের ওজন গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে জয়েন্ট এর চাপ বহন করার ক্ষেত্রে।দেহের এক পাউন্ড অতিরিক্ত ওজন
হাটুতে অতিরিক্ত চার পাউন্ড চাপ সৃষ্টি করে।স্থূলতা আরথাইটিস এ প্রভাব ফেলে
দুটি কারনেঃ অতিরিক্ত চাপ জয়েন্ট এর উপর ব্যথা এবং অস্বস্তির যন্ত্রণা দিতে পারে।
ক্যান্সারঃ
আমাদের শরীরে
অতিরিক্ত চর্বি হরমোন এবং বিভিন্ন গ্রোথ ফ্যাক্টর তৈরিতে প্রভাব ফেলে যা আমাদের
কোষের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে যার পরিনতি হতে পারে
ক্যান্সার।সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে ইংল্যান্ড এর ক্যান্সারে আক্রান্ত বিশ জনের
একজন স্থূলতার শিকার।
নাকডাকাঃ
স্থূলকায় লোকদের বাড়তি
ওজনের ঘাড় ও গলার টিস্যু নাক ডাকার অন্যতম কারন হতে পারে।
সামাজিকভাবে হেয়
প্রতিপন্ন হওয়াঃ
স্বাভাবিক ভাবেই স্থূলকায় মানুষ দেখতে দৃষ্টিকটু লাগে।স্থূলকায় মানুষকে
এজন্য সমাজে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।বিশেষ করে মেয়েদের স্থূলকায় হওয়ার কারনে বিভিন্নপরিবেশে বৈষম্য এর শিকার হতে হয়।এমনকি পুরুষরা জীবন সঙ্গী বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে স্লিম ফিগার মেয়ের প্রতি আগ্রহী হয়।
হজমে সমস্যাঃ
অতিরিক্ত ওজনের কারনে শরীরের বিভিন্ন হরমোন এবং ইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ করতে
পারে না। তাই হজমে সমস্যা হতে পারে।
পরিশেষে স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।তাই সুস্থভাবে বাঁচতে হলে আমাদের
স্থূলতা বা মুটিয়ে যাওয়া হতে সতর্ক থাকতে হবে।এজন্য অবশ্যই পুষ্টি বিজ্ঞানীদের
পরামর্শ মেনে চলা উচিত।বর্তমান সময়ে মুটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারন ফাস্টফুড
এবং কোমল পানীয় বিশেষ করে বাবা মা তাদের সন্তানদের আবদার রক্ষা করতে
গিয়ে বাধ্য হয়েই তা কিনে দেন।স্থূলতা এখন বৈশ্বিক সমস্যা।৬৫ ভাগ আমেরিকান
স্থূলতার শিকার।তাই সুস্থ জাতি গঠনে বাংলাদেশ সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়
কে এমন কৌশল নিতে হবে যাতে ধনী,গরিব নির্বিশেষে সবাই কর্মঠ
এবং সুখী জীবন পায়।
No comments:
Post a Comment